ভ্লাদিমির পুতিন
জোসেফ স্টালিনের পর সবচেয়ে দীর্ঘ
সময় ধরে থাকা রাশিয়ান নেতা ভ্লাদিমির পুতিন, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ক্ষমতায় আসীন আছেন।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্ষ্মতাধর ব্যাক্তি
পুতিনের শৈশব কেটেছে বেশ কঠিন পরিবেশে। বর্তমানে যেটি সেন্ট পিটসবার্গ নামে পরিচিত,
সেই জায়গাটির নাম এক সময় ছিল ‘লেলিনগ্রাদ’। সেখানেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ভ্লাদিমির
পুতিনের।
পুতিনের দাদা স্পিরিডন পুতিন ছিলেন পেশায় একজন বাবুর্চি। পুতিনের বাবার বয়স যখন মাত্র ১৭ বছর তখন তিনি বিয়ে করেন মারিয়া ইভানোভানা পুতি্নাকে। সে সময় গোটা বিশ্বের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি খুব সংকটময় সময় পার করছিলো। পুতিনের বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিদোনোভিচ পুতিন ছিলেন সোভিয়েত নৌবাহিনীর একজন সদস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে গ্রেনেডের আঘাতে আহত হয়ে যুদ্ধ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। লেলিনগ্রাদ অবরোধের কারনে শহরের অবস্থা তখন ভয়াবহ। বাড়িতে ঢুকতেই তিনি দেখতে পান বাড়ির সামনে বেশ কিছু মৃতদেহ পড়ে আছে এবং সেগুলো ট্রাকে তোলার কাজ চলছে। একটু খেয়াল করে তিনি দেখলেন সেই লাশের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে তার প্রিয়তম স্ত্রী মারিয়া পুতি্নার জুতো। স্ত্রীর নিথর দেহ বুকে তুলতেই তিনি বুঝতে পারেন তার স্ত্রীর দেহে এখনও জীবন আছে! দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি।
লেলিনগ্রাদ অবরোধের সেই দুর্বিস্বহ
সময়ে মারা যায় তাদের প্রথম দুই সন্তান ভিক্টর এবং আলবার্ট। সেই ঘটনার প্রায় ৮ বছর পর
১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর মারিয়া পুতিনারর গর্ভে জন্ম নেয় আরেক সন্তান। যিনি আজ রাশিয়ার প্রেসিডিন্ট।
গ্রেনেডের আঘাতে পঙ্গুত্ব বরন করে
নেয়া পুতিনের বাবা পরবর্তিতে চাকরি নিয়েছিলেন একটি কারখানায় আর মা মারিয়া তখন লেলিনগ্রাদের রাস্তায়
ঝাড়ু দেয়ার কাজ করতেন। নিদারুণ অর্থকষ্টে থাকা পুতিন পরিবার তখন এমন একটি ঘড়ে বসবাস
করত যে ঘড়ে দৃশ্যত কোন গরম পানির ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলনা। অসংখ্য ইঁদুরের সাথে রুম
ভাগাভাগি করে বসবাস করতেন তারা।
ছোট বেলা থেকেই পুতিনের ছিল লড়াকু
মনোভাব। কিশোর বয়সে লেলিনগ্রাদে থাকা কালীন স্থানীয় ছেলেদের সাথে তার সংঘাত হয়েছিল।
সহপাঠীদের সাথেও নিত্যদিন ঝগড়া, মারামারি লেগেই থাকতো পুতিনের। এমনকি অপরাধ জগতের দিকেও
পা বাড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। তখন পরিবার থেকে তাকে ব্যস্ত রাখা হয় বিভিন্ন খেলাধুলায়।
ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় জুডো ক্লাসে।
কেজিবির গুপ্তচর থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
পুতিনের স্বপ্ন ছিল তৎকালীন সোভিয়েত
ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে কাজ করার। আইন শাস্ত্র পড়াশুনা করা পুতিন বিশ্ববিদ্যালয়
জীবন শেষ করেই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন। স্নায়ু
যুদ্ধ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে ‘কেজিবির গোয়েন্দা
হিসেবে কাজ করেছেন। কেজিবিতে তিনি চাকরি করেন দীর্ঘ ১৫ বছর, যার মধ্যে ৬ বছর কাটিয়ে
দেন জার্মানির ড্রেসিডেনে।
কেজিবি থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবি
নিয়ে অবসরে যাওয়া ভ্লাদিমির পুতিনকে রাজপথে প্রথম নিয়ে আসেন সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রথম
নির্বাচিত মেয়র আনাতোলি সোবচাক। তাঁকে ভ্লাদিমির পুতিনের রাজনৈতিক গুরুও বলা হয়। গরবাচেভ
এবং ইয়েলতসিনের মত যে কয়েকজন সংস্কারপন্থী লোক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পেছনের মুখ্য
ব্যক্তি ছিলেন - তাদের একজন ছিলেন এই সোবচাক।
ভ্লাদিমির পুতিন নামে কেজিবির একজন
মাঝারি স্তরের কর্মকর্তা, যাকে প্রায় কেউই চিনতেন না। কোন এক অজানা কারনে তাকে একপ্রকার
তুলে এনে প্রথম বারের মত রাজনৈতিক দায়িত্বও দিয়েছিলেন এই সোবচাক।
১৯৯০ সালে আনাতোলি সোবচাক সেন্ট পিটার্সবার্গের
মেয়র থাকাকালীন পুতিনকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এর কিছুদিন পরেই পুতিন পেয়ে
যান ডেপুটি মেয়রের পদ। পুতিন এবং সোবচাকের সম্পর্ক এতই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল যে, সোবচাকের
বিরুদ্ধে একবার যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল - তখন পুতিন তাকে বিশেষ চার্টার বিমানে
দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার ঝুকিও নিয়েছিলেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে পুতিন মস্কো চলে আসেন।
সেখানে প্রেসিডেন্ট স্টাফ হিসেবে পাভেল বরোদিনের ডেপুটি হিসেবে যোগ দেন। নিজের চৌকশ
বুদ্ধিমত্বা এবং কর্মদক্ষতার কারনে ১৯৯৮ সালে পুতিন নজরে আসেন তখনকার প্রেসিডেন্ট বরিস
ইয়েলতসিনের । তিনি তাকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসের ডিরেক্টর পদে বসান। পুতিন ধীরে
ধীরে প্রেসিডেন্টের অতীব আস্থাভাজন হয়ে উঠতে থাকেন। বলা যায়, তখন থেকেই ইয়েলতসিনের
উত্তরাধিকারী হিসেবে পুতিনকেই তৈরি করা হতে লাগলো। ১৯৯৯ সালের অগাস্টে, বরিস ইয়েলতসিন
ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। ইয়েলতসিনের এই পদক্ষেপেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রেসিডেন্ট ইয়েলতসিন
পুতিনকে ক্রেমলিনের জন্যই প্রস্তুত করছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ইয়েলতসিনের ক্ষমতায়
থাকার মেয়াদ আরও এক বছর থাকলেও ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি তাড়িঘড়ি করে ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। নববর্ষের
তিন দিন আগে, হঠাত করেই একদিন ইয়েলতসিন পুতিনকে
তার বাসভবনে ডাকেন। পুতিনকে ইয়েলতসিন বললেন আমি জুলাই অবধি ক্ষমতায় না থাকার সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। সামনের ৩১শে ডিসেম্বরেই আমি পদত্যাগ করতে চাই।
ইয়েলতসিনের এই আচমকা সিদ্ধান্তে উপস্থিত
গুটিকয়েক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চমকিত হয়ে যান। ইয়েলতসিনের এই সিদ্ধান্ত হাতে গোনা কয়েকজনই
কেবল জানতেন। এমনকি ইয়েলতসিন তার স্ত্রীকেও এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
১৯৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে
যাওয়ার অভিঘাতে প্রবল চাপ নিয়ে এতদিন রাশিয়াকে শাসন করেছিলেন ইয়েলতসিন। বরিস ইয়েলতসিন
তার চূড়ান্ত টেলিভিশন ভাষণটি ক্রেমলিনে রেকর্ড করেন। সেখানে উপস্থিত সবার জন্য ইয়েলতসিনের
এই সেই ভাষনটি ছিল বিশাল এক ধাক্কার মতো। সবাই সেই ঘোষণা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
প্রেসিডেন্টের রেকর্ডকৃত ভাষন তখনও
প্রচারিত হয়নি। সরকারিভাবে ঘোষণাটি প্রচারের জন্য তখনও চার ঘণ্টা সময় বাকি ছিল। তাই
গোপনীয়তা রক্ষায় ওই রেকর্ড রুমের সমস্ত লোককে ভাষন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত না হওয়া
পর্যন্ত তালাবন্ধ করে রাখা হয়।
ভ্লাদিমির পুতিন যখন প্রথমবারের মতো
প্রেসিডেন্ট হবার পথে ঠিক তখনই হঠাৎ পুতিনের রাজনৈতিক গুরু আনাতোলি সোবচাক মারা গেলেন,
কালিনিনগ্রাদের এক হোটেল কক্ষে। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ বলা হলো
কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট - কিন্তু হার্ট এ্যাটাকের কোন লক্ষণ খুঁজে পাওয়া গেল না।
সোবচাকের স্ত্রী লু্দমিলা নারুসোভার
সন্দেহ ছিল তার স্বামীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলনা। সে সময় গুঞ্জন উঠেছিল , আনাতোলি সোবচাকের
মৃত্যুর পেছনে ভ্লাদিমির পুতিনের হাত আছে। কিন্তু সোবচাকের স্ত্রী নারুসোভা এ অভিযোগ
সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কেউ কখনও কাদতে দেখেনি। শুধু একবার পুতিনের চোখে জল দেখা গিয়েছিল। সোবচাকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, পুতিনের চোখ অস্রু ভেজা। এর থেকে অনুমান করাযায় পুতিনের উপড় সোবচাকের প্রভাব ঠিক কতটা ছিলো।
সোবচাকের স্ত্রী নারুসোভা পরবর্তিতে
নিজেই তার স্বামীর মৃতদেহের একটা ময়নাতদন্ত করিয়েছিলেন। তার রিপোর্ট তিনি আজও প্রকাশ
করেননি। সেটা এখনও রক্ষিত আছে রাশিয়ার বাইরে একটা গোপন সিন্দুকে।
২০০৪ সালে পুতিন দ্বিতীয় মেয়াদে
পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার এই মেয়াদ শেষ হয় ৭ মে, ২০০৮ সালে। সংবিধান
অনুযায়ী পরপর দুইবারের বেশী রাষ্ট্রপতি হতে না পারার নিয়ম থাকার কারনে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে হয়। ২০০৮
সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার উত্তরসূরী হিসেবে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিজয় লাভ করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
ভ্লাদিমির পুতিনকেই মনোনীত করেন। এরপরে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সালে পুতিন ফের ঘোষণা দেন
যে, তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য নতুন করে ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করবেন। এবং ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি তৃতীয় মেয়াদে
জয়লাভ করেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো
রাশিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন পুতিনকেও ব্যাথিত করেছিল।
সোভিয়েত ভাঙনের পর নানা কারনে পিছিয়ে পরা রাশিয়াকে তিনি বিশ্বব্যাপী আবারও পরাশক্তি
হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন।
পঞ্চাশ বছর আগে লেলিনগ্রাদের রাস্তায়
পুতিন শিখেছিলেন,’’ কোনো লড়াই যদি অবশ্যম্ভাবী হয়, তাহলে প্রথম আঘাতটা আপনাকেই করতে
হবে।’এমনই লড়াকু
মোনোভাব নিয়ে বেড়ে ওঠা পুতিনের এই মনোভাব ইউক্রেন যুদ্ধেও প্রতিফলিত হলো।
এমন দৃঢ়চেতা মনোবল পুতিন এবং পুতিনের
দেশ একদিনে অর্জন করেনি। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা রাশিয়াকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন
তিনি। পাশাপাশি সমরাস্ত্রের দিক দিয়েও নিজের দেশকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন সুপারপাওয়ার
হিসেবে। নিউক্লিয়ার মিসাইলের পাশাপাশি তার হাতে এমন কিছু আছে যা আর কোন শক্তির কাছে
নেই।
মাত্র তিন বছর আগে এমন এক পারমানবিক অস্ত্র হাতে পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যা দিয়ে তিনি চাইলেই এক মুহুর্তে ইউরোপকে ধূলিস্মাৎ করে দিতে পারেন। মুহুর্তেই বদলে দিতে পারেন পৃথিবীর এক অংশের মানচিত্র। অনেকে এই পারমাণবিক সমোরাস্ত্রকে ডেড হেড নামে ডাকেন। ধারনা করা হয়, এই ডেড হেড আসলে স্নায়ু যুদ্ধ চলাকালীন আবিষ্কৃত অটোমেটিক নিউক্লিয়ার ওয়েপনস কন্ট্রোল সিস্টেম। যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রগুলো। এই সিস্টেমের একটা বোতামে চাপ দিলেই একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবেন রুশ প্রেসিডেন্ট । বিশেষজ্ঞদের ধারনা, দক্ষিণ মস্কোর কোনও সেনা বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এই ডেড হেড সিস্টেমকে। তবে এর যথাযথ অবস্থান জানে না কেউই।
রাশিয়ার উত্থানে পুতিনের ভূমিকা থাকা সত্বেও অভিযোগ আছে পুতিন রাশিয়ায় চালু রেখেছেন একনায়কতন্ত্র। একনায়কতন্ত্রের আছে নানা রূপ । এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শাসন ভার অনেক সময় কোন একটি পার্টির কাছে অথবা একটি পরিবারের হাতে ন্যস্ত থাকে। আবার একনায়কতন্ত্র ব্যক্তিকেন্দ্রিকও হতে পারে। পরিবার কিংবা পার্টির একনায়কতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তত কয়েক জন ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্রে সেটা থাকে না। সেই কারণেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্র সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ।
পুতিন নিশ্বন্দেহে একজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক একনায়ক। তাঁর
দেশে দ্বিতীয় কোনো মানুষ নেই যিনি তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য শক্তিশালী
চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। পুতিন চাইলেই যে অনেক কিছু করে ফেলতে পারেন সেটা বলা বাহুল্য।
প্রভাবশালী পুতিনের প্রভাব তাই বিশ্বব্যাপী।
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ক্ষমতাবান মানুষদের
নিয়ে যে তালিকা করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী, পরপর চার বার দুনিয়ার এক নম্বর প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েছিলেন
পুতিন।
প্রবল ক্ষমতাধর ভ্লাদিমির পুতিন দারূন
রোমাঞ্চপ্রিয় একজন মানুষও বটে। প্রাণী পোশার শখ এবং খেলাধুলার প্রতি তীব্র আকর্ষন তো
আছেই, ভ্লাদিমির পুতিনকে একজন উদীয়মান প্রত্নতাত্ত্বিকও বলা যেতে পারে। ২০১১ সালে কৃষ্ণ সাগরে ডুব দেওয়ার সময়
পুতিন কিছু প্রাচীন গ্রীক কলসও আবিষ্কার করেছিলেন।
পুতিনের কিছু বিষ্ময়কর বিশ্বাস আছে।
যা শুনলে আপনি হয়ত হাসবেন। যেমন, পুতিন মনে করেন ইন্টারনেট আসলে সিআইএ অর্থাৎ মার্কিন
গোয়েন্দা সংস্থা-র একটি বিশেষ প্রোজেক্ট। বিষ্ময়কর হলেও সত্য, পুতিনের কোন স্মার্টফোন
নেই, এবং তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারও করেন খুব সামান্য।
নিশ্চিতভাবেই বলাযায়, একবিংশ শতকে
পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ভ্লাদিমির পুতিন নানা কারনেই আলোচোনায় থাকবেন। যে কোন পরিস্থিতিতেই
যুদ্ধ কোন মানবিক সমাধান বয়ে আনতে পারেনা। ভ্লাদিমির পুতিন সহ, পৃথিবীর অন্যান্য ক্ষমতাধর
রাষ্ট্রনায়কদেরকেই তাই যুদ্ধহীন এক মানবিক পৃথিবী নির্মানের উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে,
যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, একজন মানবিক রাষ্ট্র নায়ককে ইতিহাস সর্বদাই কুর্নিশ
করে, আর ক্ষমতার অপব্যবহারকারীকে জানায় ধিক্কার!
Post a Comment